তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার একটি কার্যকর কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। পিআরআইও সরকারকে একটি টেকসই কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তায় আগ্রহী। উচ্চ আমদানি শুল্ক—কাস্টমস ডিউটি, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক—এ কারণে বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি অভ্যন্তরীণ মূল্য বাড়াচ্ছে। ক্রয়ক্ষমতা সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মূল্যস্তর অনেক বেশি, যা বর্তমান আমদানি কর কাঠামোর বিকৃত প্রভাব নির্দেশ করে।’
গতকাল পিআরআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ’ শীর্ষক নীতিনির্ধারণী সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাবেক সদস্য ফরিদউদ্দিন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং এম গ্রুপ গ্লোবালের প্রধান হাফিজ চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। আলোচক ছিলেন দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ ও দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক জাকির হোসেন।
জাকির আহমেদ খান বলেন, ‘বেশির ভাগ সংস্কারের বিষয়ে কর্মকর্তারা তাত্ত্বিকভাবে বোঝেন—সমস্যা জ্ঞানে নয়, বাস্তবায়নে। কখন পদক্ষেপ নিতে হবে, কীভাবে রাজনৈতিক অর্থনীতি সামলাতে হবে এবং বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব কী হবে। বছরে একবার কোনো একক খাতের সঙ্গে বাজেট আলোচনা যথেষ্ট নয়।’
মূল প্রবন্ধে ড. বজলুল হক খন্দকার তিনটি বিষয় তুলে ধরেন। প্রথমত, একই উৎপাদন স্তরে এসডি ও ভ্যাট থাকার কারণে করের ওপর কর আরোপ হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে একক পর্যায়ে আবগারি কর আরোপ করা হয় এবং ভ্যাট হিসাব করা হয় সে কর বাদ দিয়ে, যা জটিলতা কমায়। দ্বিতীয়ত, ক্ষতিকর পণ্যের ওপর ভিত্তি করে কর কাঠামো পুনর্গঠন করা উচিত এবং ডেটাভিত্তিক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো সংস্কার টেকসই নয়। তাই এনবিআরকে আধুনিক ডেটা ব্যবস্থায় যেতে হবে।